ডলার সূচকে পতন

আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বেড়ে রেকর্ড উচ্চতার কাছাকাছি

ডলারের বিনিময় হার কমায় গতকাল আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বেড়েছে।

ডলারের বিনিময় হার কমায় গতকাল আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বেড়েছে। এতে মূল্যবান ধাতুটির দাম রেকর্ড সর্বোচ্চের কাছাকাছি পৌঁছেছে। বিনিয়োগকারীরা চলতি সপ্তাহে প্রকাশিতব্য যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি প্রতিবেদনের দিকে নজর রাখছেন। ওই প্রতিবেদন সুদহারের বিষয়ে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) ভবিষ্যৎ অবস্থানের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিয়ে থাকে। খবর রয়টার্স।

গতকাল স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। প্রতি আউন্সের দাম পৌঁছেছে ২ হাজার ৯৪৩ ডলার ৫০ সেন্টে। গত সপ্তাহে ইতিহাসের সর্বোচ্চ ২ হাজার ৯৫৪ ডলার ৬৯ সেন্টে উন্নীত হয়েছিল স্বর্ণের দাম। তবে পরবর্তী কয়েক দিন বাজার সংশোধনের কারণে আবারো দাম কমে আসে।

এদিকে মার্কিন ফিউচার মার্কেটে স্বর্ণের দাম দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। প্রতি আউন্স কেনাবেচা হয়েছে ২ হাজার ৯৫৮ ডলার ২০ সেন্টে।

এক্সিনিটি গ্রুপের প্রধান বাজার বিশ্লেষক হান ট্যান বলেন, ‘ডলারের বিনিময় হার কমায় স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম রেকর্ড উচ্চতায় ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে। স্বর্ণের এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড ফান্ড (ইটিএফ) প্রবাহ বৃদ্ধিও এর পেছনে প্রভাবকের ভূমিকা পালন করেছে।’

গতকাল মার্কিন ডলারের মানের পরিমাপক ডলার সূচক কমেছে। ফলে অন্যান্য মুদ্রায় লেনদেনকারী ব্যবসায়ীদের জন্য স্বর্ণ তুলনামূলক সাশ্রয়ী হয়। এতে চাহিদা বাড়ায় স্বর্ণে ঊর্ধ্বমুখী চাপ তৈরি হয়।

দায়িত্বগ্রহণের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিক দেশের পণ্য আমদানিতে শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। এতে ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যযুদ্ধের আশঙ্কায় স্বর্ণের দাম আউন্সপ্রতি ২ হাজার ৯৫০ ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করে। বিনিয়োগকারীরা এখন ৩ হাজার ডলার অতিক্রমের অপেক্ষা করছেন।

গত সপ্তাহে ডোনাল্ড ট্রাম্প কাঠ ও বনজ পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন। এর আগে গাড়ি, সেমিকন্ডাক্টর ও ফার্মাসিউটিক্যালস আমদানির ওপর শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিলেন। আপৎকালীন সময়ে স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে উচ্চ সুদহার ধাতুটির প্রতি বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ কমিয়ে দেয়।

এক্সিনিটি গ্রুপের প্রধান বাজার বিশ্লেষক হান ট্যান আরো বলেন, ‘স্বর্ণের দাম আউন্সপ্রতি ৩ হাজার ডলারের স্তরে পৌঁছার অপেক্ষা করছে। কারণ ফেডের পরবর্তী সুদহার কর্তনের ঘোষণা আসতে আরো দেরি হতে পারে।’

বাজারবিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, চলতি বছর ফেডের প্রথম সুদহার কাটছাঁটের ঘোষণা সেপ্টেম্বর নাগাদ আসতে পারে।

বাজারসংশ্লিষ্টরা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুদ্রানীতি আরো গভীরভাবে বোঝার জন্য শুক্রবার প্রকাশিতব্য পারসোনাল কনজাম্পশন এক্সপেনডিচার্স (পিসিই) প্রতিবেদনের দিকে লক্ষ্য রাখছেন। এ প্রতিবেদনকে ফেডের অন্যতম মূল্যস্ফীতি পরিমাপক হিসেবে দেখা হয়।

এদিকে গতকাল স্পট মার্কেটে রূপার দাম দশমিক ১ শতাংশ কমেছে। প্রতি আউন্সের দাম ৩২ ডলার ৫ সেন্ট পৌঁছেছে। এছাড়া প্লাটিনামের দাম দশমিক ৪ শতাংশ কমে ৯৬৬ ডলার ১৩ সেন্ট ও প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ কমে ৯৫৭ ডলার ৩২ সেন্টে পৌঁছেছে।

এদিকে সম্প্রতি স্বর্ণের দাম চলতি বছরের শেষ নাগাদ আউন্সপ্রতি ৩ হাজার ১০০ ডলারে পৌঁছার পূর্বাভাস দিয়েছে গোল্ডম্যান স্যাকস। সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণ ক্রয় এবং ইটিএফ প্রবাহ বেড়েছে। বছরজুড়ে এ প্রবণতা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনায় স্বর্ণের দাম বাড়ার পূর্বাভাস দেয় বহুজাতিক বিনিয়োগ ব্যাংকটি।

গোল্ডম্যান স্যাকসের বিশ্লেষক লিনা থমাস ও দান স্ট্রাইভেন এক নোটে জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণ ক্রয় প্রতি মাসে গড়ে ৫০ টনে পৌঁছতে পারে, যা আগের পূর্বাভাসের তুলনায় বেশি। তারা বলেন, ‘‌বৈশ্বিক শুল্কযুদ্ধসহ অন্যান্য অর্থনৈতিক নীতির কারণে অনিশ্চয়তা বজায় থাকলে ধাতুটির দাম বেড়ে আউন্সপ্রতি ৩ হাজার ৩০০ ডলারেও পৌঁছতে পারে। ব্লুমবার্গের হিসাব বলছে, এতে স্বর্ণের দাম বার্ষিক ২৬ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।’

আরও